শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) জনশূন্য। শিক্ষার্থীরা ছুটিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরেছেন। ফাঁকা হয়ে গেছে আড্ডাস্থল, খাবারের দোকান, রাস্তা ও চত্বরে নেমেছে নিস্তব্ধতা। এই নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে অসংখ্য কুকুর-বিড়াল ও পথপ্রাণী।
তবে এই দুঃসময়ে প্রাণীদের আশ্রয় হয়ে উঠেছেন শিক্ষা বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী আল জকি হোসেন। প্রতিদিন নিজ হাতে রান্না করে তিনি খাওয়াচ্ছেন ক্ষুধার্ত কুকুর-বিড়ালগুলোকে। তাঁকে দেখলেই ছুটে আসে প্রাণীগুলো— যেন শুধু খাবারের আশায় নয়, ভালোবাসার টানেই।
গত দুই বছর ধরে ‘জীবেপ্রেম’ নামে একটি উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আল জকি। ছুটির সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ কেজি চাল ও ৩ কেজি মুরগি দিয়ে রান্না করা খিচুড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি কুকুর-বিড়াল। শুধু ক্যাম্পাস নয়, আশপাশের রাস্তাগুলোর প্রাণীরাও তার ডাকে সাড়া দেয়।
শিক্ষার্থী শফিউল আলম হিমেল বলেন, “ক্যাম্পাসে অনেক প্রাণী অনাহারে কষ্ট পাচ্ছিল। জকি ভাইয়ের উদ্যোগটি মানবিক ও দৃষ্টান্তমূলক। আমরা চাই, অন্যরাও এ থেকে অনুপ্রাণিত হোক।”
শিক্ষকরাও তার এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, প্রাণী অবহেলার এই সমাজে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর এমন পদক্ষেপ শুধু মানবিকতার নয়, বরং সামাজিক সচেতনতারও নিদর্শন।
নিজের কার্যক্রম প্রসঙ্গে আল জকি বলেন, “ছুটির সময় প্রাণীগুলো খাবারের অভাবে কষ্ট পায়, অনেক সময় আক্রমণাত্মকও হয়ে ওঠে। তাই ক্যাম্পাস খোলার আগ পর্যন্ত তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করি।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখা থেকেও তিনি এ উদ্যোগে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। “আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রাণীপ্রেমী মানুষ। তিনি সবসময় বলেন, কোনো প্রাণী যেন অভুক্ত না থাকে— আমি সেই ভাবনা থেকেই কাজটি করছি,” বলেন জকি।
ছাত্রছাত্রীশূন্য নিস্তব্ধ নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে তাই এখন এক পরিচিত নাম— আল জকি হোসেন। তার হাতেই মিলছে ক্ষুধার্ত প্রাণীগুলোর খাবার, সান্ত্বনা আর মানবিকতার ছোঁয়া।